দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগার রাস তানুরায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতি বিদ্রোহীরা। মঙ্গলবার এ হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।
হুতিরা আরও দাবি করেছে, সৌদি সামরিক বিমান লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ লোহিত সাগরীয় নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছে সৌদি সমর্থিত বাহিনীর অগ্রযাত্রা প্রতিহত করেছে তারা।
ইরান যুদ্ধ শুরুর আট মাস পর ইয়েমেন ও সৌদি আরবের মধ্যে সংঘাত তীব্র হওয়ায় তেল সরবরাহ আরও ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, রাস তানুরা শোধনাগারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সেখানে আগুন ধরে যায়। পারস্য উপসাগরের তীরে অবস্থিত এই স্থাপনায় তেল শোধনাগারের পাশাপাশি একটি জাহাজ চলাচল টার্মিনালও রয়েছে। হরমুজ প্রণালির পশ্চিমে এর অবস্থান।
তবে হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি সৌদি কর্তৃপক্ষ।
প্রতিদিন ৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে রাস তানুরা শোধনাগারটির। ইরান যুদ্ধের শুরুর দিকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কিছু সময়ের জন্য এটি বন্ধ রাখা হয়েছিল।
সৌদি আরবের প্রায় সব তেল রপ্তানি হয় দুটি প্রধান বন্দরের মাধ্যমে—পারস্য উপসাগরীয় উপকূলে রাস তানুরা এবং লোহিত সাগরের তীরে ইয়ানবু। অতীতেও এই দুই বন্দরে হামলা চালিয়েছে হুতিরা।
ব্লুমবার্গ নিউজ এক বিষয়ে অবগত ব্যক্তির বরাতে জানিয়েছে, রাস তানুরা টার্মিনালের কাছে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
হুতিদের দাবি, সৌদি আরবের নজরান বিমানবন্দরে থাকা দুটি সামরিক পরিবহন বিমান এবং খামিস মুশাইতের একটি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার বিকেলে সৌদি রাজধানী রিয়াদে বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ অল্প সময়ের জন্য বিমান হামলার সতর্কতা জারি করে।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, রিয়াদ লক্ষ্য করে হুতিদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বাব আল-মান্দেব প্রণালির দক্ষিণ দিক থেকে সৌদি সমর্থিত বাহিনীর অগ্রযাত্রা প্রতিহত করার দাবি করেছে হুতিরা।
চলতি মাসের শুরুর দিকে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী হুতিদের কাছ থেকে উপকূলীয় কিছু এলাকা পুনর্দখল করে। গত সেপ্টেম্বরে এসব এলাকা দখলে নিয়েছিল হুতিরা। এর ফলে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুটে গোষ্ঠীটির নিয়ন্ত্রণ কিছুটা দুর্বল হয়েছে।
হুতিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আল-মাসিরা টেলিভিশন জানিয়েছে, ইয়েমেনের মোখা শহরেও সৌদি হামলা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি।
হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে ইয়েমেনের রাজধানী সানা। গোষ্ঠীটির সঙ্গে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চলমান সংঘাতে ভেঙে পড়েছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে সোমবার সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা তেহরানে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এদিকে, পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ওই তিন দেশের সঙ্গে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে মিসর। দেশটির পার্লামেন্ট সোমবার সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় প্রয়োজনে মিসরীয় সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করার অনুমোদন দিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/